এইচএসসিতে পঞ্চগড়ের সরকারি কলেজের ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য

Published: November 1, 2026, 6:33 pm

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে এবার প্রথমবারের মতো এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু গত শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। অকৃতকার্যদের মধ্যে ১২ জন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স এবং একজন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের শিক্ষার্থী। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন ১৩ শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল জানান, ফল বিপর্যয়ের পেছনে প্রধান কারণ হলো তীব্র শিক্ষক সংকট। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় ভর্তি হওয়ার পর পড়াশোনা বাদ দিয়ে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দেয়, যা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, এক বা দুই বিষয়ে যারা অকৃতকার্য হয়েছে, সরকার তাদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ দেবে বলে তিনি জেনেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রথম ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। এ ছাড়া এখানে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবারগুলো অর্থিক সংকটে থাকে।

২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্সে পাঠদান শুরু হয় এবং ২০২৪ সালে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পর্যায় চালু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিশাল এই শিক্ষার্থী সংখ্যার বিপরীতে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এখানে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে অনুমোদিত পদ ৬৪টি হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২১ জন। অর্থাৎ ৪৩টি পদ শূন্য পড়ে আছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র শিক্ষকের পদই শূন্য রয়েছে ৩১টি। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ৬৪। এর মধ্যে শিক্ষকের পদ ৪৬টি এবং কর্মচারীর পদ ১৮টি। তবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী।

যদিও কলেজটিতে পাঁচতলা ও চারতলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচের এই ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।