চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ১২৬ টন পণ্য নিলামে

Published: November 6, 2026, 3:26 am

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১২৬ টন আপেল ও আদা নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। বন্দরের জায়গা খালি করা এবং পচনশীল পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পাঁচটি ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারে থাকা এসব পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নিলামের মাধ্যমে বন্দরের পণ্যজট কমানোর পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব সংরক্ষণের লক্ষ্য রয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচটি কনটেইনারই ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের। নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ||। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার রাখার স্থান। এরই মধ্যে এ বিষয়ে ই-নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

নিলামে তোলা পণ্যগুলোর সংরক্ষিত মূল্য ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৯ টাকা ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কনটেইনারে ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি আপেল রয়েছে, যার মূল্য ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ টাকা ৪২ পয়সা। বাকি তিনটি কনটেইনারে থাকা ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি আদার সংরক্ষিত মূল্য ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬১ টাকা ৫৫ পয়সা। কাস্টমসের নিলাম শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, পণ্যগুলো পচনশীল হওয়ায় এবং জায়গা আটকে থাকায় দ্রুত বিক্রির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কনটেইনারের প্রত্যেকটিতে ২৩ হাজার ৭২০ কেজি করে মোট ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি আপেল রয়েছে। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে ২৪ হাজার ৩০০ কেজি এবং বাকি দুটি কনটেইনারের প্রত্যেকটিতে ২৭ হাজার কেজি করে আদা রয়েছে।

নিলামে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের ৯ নভেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে হবে। দরপত্রে অংশ নিতে নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ টাকা জামানত হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার বরাবর পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট বা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কাস্টম হাউসের নিলাম শাখায় দরপত্রগুলো উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

সর্বোচ্চ দরদাতা চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্রেতাকে ডাকমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করতে হবে। সকল প্রক্রিয়া শেষে আইনি বিধি মেনে পণ্যগুলো খালাস করা হবে। স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব পচনশীল পণ্য দ্রুত সরিয়ে নিয়ে বন্দরের ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই নিলামের মূল উদ্দেশ্য। এরপর প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসরণ করে পণ্য খালাস করা হবে।