পর্তুগালের জার্সিতে ক্যারিয়ারের ১০০০তম গোল করার স্বপ্ন নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বৃহস্পতিবার অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে তার ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য পথচলার ইতি ঘটল। এখন এই মাইলফলক স্পর্শ করতে হলে তাকে পুরোপুরি ক্লাব ফুটবলের ওপরই নির্ভর করতে হবে। ফলে পর্তুগালের হয়ে তার ১০০০তম গোল করার আকাঙ্ক্ষাটি অপূর্ণই থেকে গেল। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন পর্তুগাল অধিনায়ক।
জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা গত সেপ্টেম্বরেও জানিয়েছিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। উয়েফা নেশনস লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, তার প্রধান দুটি লক্ষ্য হলো উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জয় এবং ক্যারিয়ারের ১০০০তম গোল করা। সেই সময় তিনি পর্তুগালের জার্সিতেই গোলটি করতে চেয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তে সেই স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। এখন সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়েই তাকে ঐতিহাসিক এই গোলটি খুঁজতে হবে। এরপর সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছেন দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা।
২০০৩ সালের আগস্টে অভিষেক হওয়া রোনালদো তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচে মোট ১৪৬টি গোল করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এখন তারই দখলে। তার অধিনায়কত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন তিনি। তার নেতৃত্বে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল।
বিদায়বেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় রোনালদো বলেন, ২০০৩ সালের আগস্টে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আমার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, আজ যখন পেছনে ফিরে তাকাই, তখন শুধুমাত্র রেকর্ড, গোল কিংবা ট্রফি দেখি না; বরং আমার দৃষ্টিতে মানুষের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ ২৩ বছরের এই যাত্রায় জাতীয় দলের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত তার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা জুড়ে থাকবে। যে ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে ১০০০ গোলের স্বপ্ন দেখতেন, বিদায়বেলায় তিনিই জানালেন, তার কাছে গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তবে বিদায়ী বার্তায় রোনালদোর কণ্ঠে ছিল ভিন্ন এক আবেগ।



