আইসিসির সর্বশেষ পয়েন্ট তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের ফাইনালে ওঠার লড়াই দিনকে দিন তীব্র হচ্ছে। পয়েন্ট তালিকায় ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। এরপর ৭১.৪৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ৬৯.২৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া। ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চারে ভারত, আর ৪৭.৬২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে বাংলাদেশ। সপ্তম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৩৩.৩৩ শতাংশ। আগামী ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৩ জুন লন্ডনের ওভালে এই চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৫-২৭ চক্রের বাকি সময়টায় শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নিতে লড়াইয়ে আছে ছয় দল। সাত টেস্টে ৪০ পয়েন্ট ও ৪৭.৬২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পাঁচে। বর্তমান ৪০ পয়েন্টের সঙ্গে বাকি পাঁচ ম্যাচে পূর্ণ ৬০ পয়েন্ট যোগ করতে পারলে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট হবে ১০০। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই জমজমাট হয়ে উঠছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের হিসাব; একইসঙ্গে জমে উঠছে সমীকরণের খেলা। ১১ টেস্টে ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চারে থাকা ভারতের সামনে সাতটি ম্যাচ। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ফলও তখন বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে। শীর্ষ দুইয়ে ফিরতে হলে জয়ের ধারায় ফিরতে হবে দলটিকে। বাকি ম্যাচগুলোতে বড় সাফল্য না পেলে ফাইনালে ওঠা কঠিন হবে।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে পরাজয়ের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্বীকার করেছেন যে, ফাইনালের পথ এখন তাদের জন্য বেশ কঠিন। দলটির হাতে থাকা পরবর্তী পাঁচ টেস্টের মধ্যে একটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এবং দুটি ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। যদি বাংলাদেশ নিজেদের বাকি সব ম্যাচে জিততে পারে, তবে তাদের পয়েন্টের হার ৬৯.৪৪ শতাংশে পৌঁছাবে। কিন্তু সামান্য হোঁচট বা ড্রয়ের সম্ভাবনাও এখন তাদের হিসেবকে জটিল করে তুলছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হেরে যাওয়ায় সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি হার কিংবা ড্রও সে হিসাবকে অনেক কঠিন করে তুলবে। দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই নয়, বরং মোট আট ম্যাচের ফলই তাদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি এবং বাকি ম্যাচের সংখ্যা বিবেচনায় কাজটি সহজ নয়।
পয়েন্ট ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি জয়ে ১২ পয়েন্ট, ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট এবং টাই হলে ৬ পয়েন্ট পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের অবস্থান বেশ মজবুত করেছে। বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রোটিয়াদের সামনে সাতটি ম্যাচ বাকি আছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি টেস্ট। তাদের এই ধারাবাহিকতা ফাইনালের পথে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের সামনে এখনো আটটি টেস্ট বাকি রয়েছে। তাদের লড়াই হবে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সফর নিউজিল্যান্ডের জন্য একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হেরে অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়েছে। তাদের সামনেও আটটি ম্যাচ আছে, যার মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি ও ভারতের বিপক্ষে পাঁচটি টেস্ট অন্তর্ভুক্ত। ভারতের সামনে রয়েছে সাতটি ম্যাচ—নিউজিল্যান্ডের সাথে দুটি ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে পাঁচটি। সব মিলিয়ে প্রতিটি দলের সামনে এখন প্রতিটি পয়েন্ট মূল্যবান হয়ে উঠেছে। কারো হাতে আছে কিছুটা স্বস্তি, কারো সামনে কঠিন পরীক্ষা, আর বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা প্রায় নিখুঁত সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
শ্রীলঙ্কার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে টিকে থাকলেও তাদের পথটি বেশ বন্ধুর। তাদের সামনে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ছয়টি টেস্ট ম্যাচ বাকি। তারা সব ম্যাচ জিতলে সর্বোচ্চ ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট পেতে পারে, যা তাদের জন্য একটি বড় লক্ষ্য।
বাংলাদেশের জন্য এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কেবল নিজেদের বাকি পাঁচ টেস্টে জেতাই যথেষ্ট নয়, বরং অন্যান্য দলের পয়েন্ট হারানোর দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পাওয়ার অভিজ্ঞতা দলটির রয়েছে, তবুও ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এখন প্রতিটা ম্যাচেই তাদের নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ঢাকা টেস্টে হারের পর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যে ধাক্কা লেগেছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই লড়াইয়ে ছয়টি দলই টিকে থাকার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য ও কৌশল এখন চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অপেক্ষায়। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক মাস ক্রিকেটের এই কুলীন সংস্করণে পয়েন্টের হিসাব-নিকাশই নির্ধারণ করে দেবে লন্ডনের ওভালে কোন দুটি দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে।

