সব সচিব সময়মতো অফিসে এলে আমিও আসব: গোপালগঞ্জের ইউপি সচিব

Published: November 4, 2026, 9:05 am

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) লিপী ঘরামীর বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, দেরিতে অফিসে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। তার এমন দায়িত্বহীন আচরণ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও নয়জন ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সচিব নিয়মিত অফিস করেন না। এছাড়া অফিসের গোপনীয় তথ্য বাইরে প্রকাশ করা, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা বজায় রাখা এবং ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদ বাবদ আদায় করা সরকারি ফি-এর সঠিক হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিয়মিত সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সকাল ৯টায় ইউনিয়ন পরিষদে এসেও তারা সচিবের দেখা পান না। অনেক ক্ষেত্রে সকাল ১০টা বা ১১টার আগে তিনি অফিসে আসেন না, এমনকি কোনো কোনো দিন তাকে অফিসেই দেখা যায় না। ফোনে জানতে চাইলেও তিনি খারাপ আচরণ করেন। দাপ্তরিক অনুমতির তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের ইচ্ছামতো কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করেন বলেও জানা গেছে।

নিজের দেরিতে আসার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লিপী ঘরামী বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি দাবি করেন, দূর থেকে আসার কারণে তার দেরি হওয়া স্বাভাবিক। এ সময় উল্টো প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সব সচিব কি সময়মতো অফিসে যান? দেশের সব সচিব যদি সময়মতো অফিসে যান, তবে আমিও সময়মতো আসব।’ তার এমন মন্তব্য এলাকায় নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইউপি সচিবের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমেন্দ্রনাথ ঢালী বলেন, ‘সচিব আমাদের কোনো কথাই শোনেন না। নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ করায় ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে।’

এদিকে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রেজওয়ানা কবির জানান, সচিবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযুক্ত সচিবকে দ্রুত অপসারণ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।