ঢাকাই চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি যুগের প্রাণপুরুষ নায়করাজ রাজ্জাক। অভিনয় জীবন শুরুর পর থেকেই তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক ছিল শততম সিনেমার মুক্তি। এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না, বরং বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ‘নায়করাজ’ হয়ে ওঠার যাত্রার অন্যতম প্রধান ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। কক্সবাজারে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি। ইরান নয়, যেন ইসরায়েলেই ‘হামলা’ চালালেন ট্রাম্প। ‘সারা দুনিয়ায় থিয়েটার বেঁচে আছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়’। সিনেমার বাইরে এন্ড্রু কিশোরের এই গানগুলো শুনেছেন।
১৯৭৬ সালে রাজ্জাকের শততম চলচ্চিত্র হিসেবে ‘প্রতিনিধি’ মুক্তি পায়। সাদমানকে নিয়ে দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ। রোনালদোর সিদ্ধান্ত আমাকে মেনে নিতে হবে: জেসুস। হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট ১২৭৬।
সেই সময়ে চলচ্চিত্রবিষয়ক বিখ্যাত পত্রিকা ‘চিত্রালী’র প্রখ্যাত সাংবাদিক আহমদ জামান চৌধুরী তাকে ‘নায়করাজ রাজ্জাক’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
এছাড়া ওই বছরের ১৫ জানুয়ারি ‘পূর্বাণী’ পত্রিকা জানায় যে, সুজাতা প্রোডাকশনের আয়োজনে রাজ্জাককে একটি বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, পরদিন অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, পরের দিন, অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘প্রতিনিধি’।
সে সময় বেশ কয়েকটি পত্রিকা তাকে নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের পরিকল্পনা করেছিল। এফডিসির কলাকুশলী এবং ‘বিচিত্রা ফিল্মস’ও তাকে সংবর্ধনা জানানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। আজিম পরিচালিত এই সিনেমায় রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সুজাতা। এ ছাড়া ‘বিচিত্রা ফিল্মস’ নামে আরেকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বিশাল আয়োজন করেছিল।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় রাজ্জাকের নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে। এরপর ‘ময়না মতি’, ‘নীল আকাশের নিচে’ ও ‘জীবন থেকে নেয়া’র মতো কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘রংবাজ’, ‘অবুঝ মন’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘স্বরলিলি’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’, ‘কি যে করি’, ‘পাগলা রাজা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘মাটির ঘর’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘আনারকলি’, ‘মৌ-চোর’, ‘রাজা সাহেব’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘বদনাম’, ‘লাইলী মজনু’, ‘তালাক’, ‘অভিযান’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘সৎভাই’, ‘শুভদা’, ‘যোগাযোগ’ ও ‘ঢাকা-৮৬’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। ১৯৬৬ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’ সিনেমা দিয়ে নায়ক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়।
অভিনয় জীবনে অসংখ্য নায়িকার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি জনপ্রিয় হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুচন্দা, কবরী, ববিতা, শাবানা, সুজাতা, শবনম, সুচরিতা, রোজিনা ও অঞ্জনা। সুচন্দার সঙ্গে তার জুটি গড়ার শুরু ‘বেহুলা’ সিনেমা দিয়ে। এরপর তারা ‘আনোয়ারা’, ‘জুলেখা’, ‘দুই ভাই’, ‘সংসার’, ‘সখিনা’, ‘কুঁচবরণ কন্যা’, ‘মনের মতো বউ’ ও ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমায় কাজ করেন। অভিনয়জীবনের শুরু থেকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে অল্প সময়েই দর্শকদের প্রিয় নায়কে পরিণত হন তিনি। ৭৫ বছরেও বক্স অফিসে রজনীকান্তের রাজত্ব।
কবরীর সঙ্গে রাজ্জাকের প্রথম সিনেমা ছিল ‘নিশি হলো ভোর’। এরপর এই জুটি উপহার দিয়েছেন ‘বাঁশরী’, ‘ময়নামতি’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘কখগঘঙ’, ‘দর্পচূর্ণ’, ‘দীপ নেভে নাই’, ‘স্মৃতিটুকু থাক’, ‘রংবাজ’, ‘বেঈমান’, ‘উপহার’ ও ‘গুন্ডা’-র মতো জনপ্রিয় সিনেমা। শাবানার সঙ্গে ‘মধুমিলন’, ‘অবুঝ মন’, ‘অতিথি’, ‘চাষীর মেয়ে’, ‘অমর প্রেম’, ‘অলংকার’, ‘মাটির ঘর’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘পুত্রবধূ’ ও ‘রজনীগন্ধা’ সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। ববিতার সঙ্গে ‘পীচ ঢালা পথ’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’, ‘আকাঙ্ক্ষা’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘আনারকলি’ ও ‘লাইলী মজনু’ সিনেমায় দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তারা। সে হিসাবেই রাজ্জাকের শততম সিনেমা মুক্তির দিনটি জানা যায়।





