আলী যাকেরের জন্মদিনে তার শূন্যতা অনুভব করেন মামুনুর রশীদ

Published: November 7, 2026, 7:26 am

আজ ৬ নভেম্বর, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মঞ্চসারথী আলী যাকেরের জন্মদিন। এ দেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে তার অবদান অপরিসীম। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের অন্যতম অগ্রপথিক হিসেবে তিনি যেমন অভিনয়ে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, তেমনি নির্দেশক হিসেবেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়। গ্যালিলিও, দেওয়ান গাজীর কিসসা কিংবা সম্রাট শাহজাহানের মতো কালজয়ী নাটকে তার অভিনয় আজও দর্শক হৃদয়ে গেঁথে আছে। আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী। এলপিজির সরকারি দাম আশপাশের দেশের তুলনায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। দীর্ঘ ৯ বছর পর উন্মুক্ত ওসমানী উদ্যান, কী আছে সেখানে। তার জীবনের প্রথম নাটকে আমরা একসঙ্গে অভিনয় করেছি, যা কোনোদিনও ভুলতে পারব না।’। এরপর নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে যোগ দেন।

প্রখ্যাত নাট্যজন মামুনুর রশীদ আলী যাকেরের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের স্মৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতারে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছিলেন মামুনুর রশীদ, যেখানে আলী যাকের অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন। সেই থেকেই তাদের কাজের সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের যাত্রা শুরু, যা আমৃত্যু অটুট ছিল। তাকে নিয়ে কাছে স্মৃতিচারণ করেছেন আরেক গুণী নাট্যজন মামুনুর রশীদ।

আলী যাকেরের মঞ্চে দক্ষতা সম্পর্কে মামুনুর রশীদ বলেন, সত্তরের দশক থেকে তিনি মঞ্চকে ভালোবেসে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। খাগড়াছড়িতে বিআরটিসি বাসে আগুন, লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেন হেলপার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেও ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় সাদমান।

দেশের সবকটি নাট্য আন্দোলনে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ দেশে যত নাট্য আন্দোলন হয়েছে, সবগুলোতেই অংশ নিয়েছেন।

তার পরিচালিত ও অভিনীত নাটক মানেই ছিল শিল্পমনা দর্শকদের কাছে বিশেষ কোনো প্রাপ্তি। বিশেষ করে গ্যালিলিও ও দেওয়ান গাজীর কিসসা নাটক দুটি মঞ্চে তার অভিনয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। সম্রাট শাহজাহান নাটকের নাম ভূমিকায় তার অভিনয় ছিল তৎকালীন থিয়েটার পাড়ায় এক অনন্য সাড়া জাগানো ঘটনা। এ ছাড়া “সম্রাট শাহজাহান” নাটকের কথাও মনে পড়ছে। ‘সারা দুনিয়ায় থিয়েটার বেঁচে আছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়’।

টেলিভিশন নাটকের ক্ষেত্রেও আলী যাকের ছিলেন সমসাময়িকদের চেয়ে এগিয়ে। মামুনুর রশীদ জানান, টেলিভিশনে তার প্রতিটি অভিনয়ে আধুনিক চিন্তাধারার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটত। এই আধুনিক মননশীলতা তিনি কেবল নিজের অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট ছিলেন।

নির্দেশক হিসেবেও আলী যাকের ছিলেন অত্যন্ত সফল। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের বাইরেও অন্য বিভিন্ন নাট্যদলের জন্য নির্দেশনা দিয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। একজন নির্দেশক হিসেবে নাটককে যেভাবে মঞ্চে উপস্থাপন করতেন, তা আজও তরুণ নাট্যকর্মীদের জন্য বড় শিক্ষার বিষয়। ৭৫ বছরেও বক্স অফিসে রজনীকান্তের রাজত্ব।

স্মৃতিচারণের শেষ পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, আলী যাকেরের অনুপস্থিতি এখন থিয়েটার অঙ্গনে প্রতিনিয়ত অনুভূত হয়। তার এই শূন্যতা প্রতি মুহূর্তে গভীরভাবে অনুভব করি। কেবল অভিনেতা বা নির্দেশক নয়, থিয়েটার নিয়ে তার লেখালেখিও ছিল সমৃদ্ধ। জন্মদিনে এই গুণী শিল্পীর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ‘সত্যি কথা বলতে, তার অনুপস্থিতি আমাদের থিয়েটারে প্রত্যক্ষভাবেই রয়ে গেছে।