কাতারের উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা: হরমুজে অগ্নিকাণ্ডের কবলে আরও দুটি ট্যাঙ্কার

Published: November 6, 2026, 3:56 am

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইউকেএমটিও জানিয়েছে, কাতার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড্রোন অথবা মিসাইল থেকে ছোড়া এই আঘাতে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি ও নাবিকদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো মেলেনি। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে গত ৩০ অক্টোবর কাতারের রাষ্ট্রীয় এলএনজি পরিবহন সংস্থা ‘নাকিলাত’ জানায়, তাদের ‘আল মায়েদা’ নামক এলএনজি জাহাজটি পারস্য উপসাগর পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সংস্থাটির দাবি, ওই ঘটনায় কোনো নাবিক হতাহত হননি এবং জাহাজটি বর্তমানে নিরাপদ ও সচল রয়েছে। ইউকেএমটিও জানিয়েছে, কাতারের উপকূলে অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের (ড্রোন অথবা মিসাইল) আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ওই ট্যাংকারের ক্রুদের বর্তমান অবস্থা কিংবা জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংস্থাটি স্পষ্ট করে যে, ওই ঘটনায় কোনো ক্রু আহত হননি এবং পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে অননুমোদনহীন রুট ব্যবহার করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং একটি টাগবোটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আইআরজিসি জানায়, প্রণালীর দক্ষিণ অংশে একটি ট্যাঙ্কার মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। এরপর হরমুজের পূর্বাঞ্চল দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একটি সুপারট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে ও সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী টাগবোটও পরবর্তীতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মঙ্গলবার জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই খসড়া প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে চলমান এসব ঘটনার প্রভাব ও এর পেছনের কারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউকেএমটিওর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর এই ধরণের হামলা সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিরসনে কাতার যখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, ঠিক তখনই এই নতুন হামলার খবর এলো।