সংবাদ শিরোনাম ও সারসংক্ষেপ
- তৃতীয় টার্মিনালের খসড়া চুক্তি: ১০০ কিলোমিটারে ১৫ বছরের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর নয়
- আপনার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে: আখতারুজ্জামানকে জামায়াত আমির
- ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিক কেন?’ তাহসিফ হত্যা মামলার শুনানিতে বিচারক
- রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের তালিকায় গণমাধ্যমের শত্রু কারা
- সাব্বির-আফিফকে নিয়ে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রাথমিক দল
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র মৌসুমী। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। প্রথম সিনেমাতেই সালমান শাহর বিপরীতে অভিনয় করে তিনি কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের শিখরে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়সহ পেয়েছেন অগুনতি ভক্তের ভালোবাসা। ক্যারিয়ারের সেই স্বর্ণালী দিনগুলো স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রথম সিনেমাই তাকে আজকের মৌসুমী বানিয়েছে। দর্শক তাকে ভালোবেসে ‘কেয়ামত কন্যা’ উপাধিতেও ভূষিত করেছেন। কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর পেশাদারিত্বের কারণে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একসময় বনে যান ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়িকাদের একজন। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে। অনেকেই আমাকে “কেয়ামত কন্যা” বলেও ডেকেছেন’, বলেন এই নায়িকা। একসময় অন্য নায়কদের বিপরীতেও অভিনয় শুরু করেন মৌসুমী। এই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন হুমায়ুন ফরীদিও। মৌসুমী অভিনীত সিনেমার জনপ্রিয় এই ১০ গান শুনেছেন। তাদের অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘খেলা ভাঙার খেলা’, ‘হয়তো আছো তবুও নেই’, ‘দিগন্তে দিঘলি’ ও ‘অহম’।
মৌসুমীর ক্যারিয়ারে সালমান শাহ ছাড়াও আরও অনেক বড় তারকার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওমর সানীর সাথে জুটি বেঁধে তিনি বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন, যার মধ্যে ‘দোলা’, ‘প্রথম প্রেম’ ও ‘প্রিয় তুমি’ উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত জীবনেও তাদের এই রসায়ন বেশ সফল। আজ ৩ নভেম্বর প্রিয় এই নায়িকার জন্মদিনে ওমর সানী তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। এ ছাড়া ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি মান্নার সঙ্গে ‘আম্মাজান’, ‘লুটতরাজ’ ও ‘কষ্ট’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পান। আমিন খান, ফেরদৌস, রিয়াজসহ সমসাময়িক প্রায় সকল জনপ্রিয় নায়কের বিপরীতেই তিনি দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করেছেন। এমনকি ছোট পর্দার অভিনেতা জাহিদ হাসান, আফজাল হোসেন ও মাহফুজ আহমেদের সঙ্গেও বিভিন্ন নাটক ও টেলিফিল্মে তার সাবলীল অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। মৌসুমীর জন্মদিনে তার স্বামী, একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমার পরিবারের মাথার তাজ হয়েই থাকো। ‘আজ গায়ে হলুদ’, ‘লাল দরিয়া’, ‘স্ত্রী কেন শত্রু’ ও ‘স্ত্রীর মর্যাদা’—এই সিনেমাগুলোতে মৌসুমীর নায়ক ছিলেন আমিন খান। তার সঙ্গে কাজ করে দেখেছি, পেশাদারিত্ব কাকে বলে। এরপর অনেক বছর পর দুজন আবার জুটি হয়ে অভিনয় করেন ‘ভুলে ভরা গল্প’ নাটকে। শাহরুখ খান: প্রেম নয়, পুরুষের চোখের জলও সুন্দর হতে পারে।
অভিনয় জীবনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি জানান, ১৯৯৩ সালের সেই প্রথম সিনেমাটি তার জীবনে চিরস্মরণীয়।
দর্শকদের ভালোবাসাই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।
মাহফুজ আহমেদের মতে, মৌসুমী একজন অসাধারণ অভিনেত্রী ও চমৎকার মানুষ, যার হাসি ও কথা বলার ভঙ্গি দর্শকদের আজও মোহিত করে। দর্শকেরা তাদের জুটিকে সাদরে গ্রহণ করেন।
আমিন খানও তাকে একজন আপসহীন পেশাদার শিল্পী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সময়ের পরিক্রমায় শাকিব খানের সঙ্গেও হাতেগোনা কিছু সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি, যেমন ‘তুই যদি আমার হইতিরে’ ও ‘দেবদাস’।
ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন বা ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন সত্ত্বেও তিনি আজ পর্যন্ত নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে অম্লান।
আজকের এই বিশেষ দিনে নিজের প্রাপ্তি নিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার আশীর্বাদ কামনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাত্রির বর্তমান পরিস্থিতি এবং মান্না ও নিশোর ‘খলনায়ক’ নিয়ে নানা আলোচনার ভিড়েও মৌসুমীর জনপ্রিয়তা আজও অটুট। মান্না ও নিশোর ‘খলনায়ক’, ৩০ বছরের ব্যবধানে একই নামে সিনেমার দুই প্রজন্ম।





