দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা তৈরি করতে চান বিপাশা হায়াত

Published: November 2, 2026, 2:49 pm

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী, নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত নিজের শিল্পচর্চা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি খোলামেলা কথা বলেছেন। নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই তারকা কালজয়ী নাটক ‘অয়োময়’-এ অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। পরবর্তীতে ‘আগুনের পরশমণি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘জয়যাত্রা’য় অভিনয় করেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। প্রখ্যাত অভিনেতা আবুল হায়াতের কন্যা বিপাশা জীবনের এই পর্যায়ে এসে চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তারা আসলে আমাকে না, আমার কাজকে নির্বাচিত করেছেন। বাংলা সাহিত্যের অনেক কবিতাই আমার পছন্দ। মঞ্চেও অনেক দিন অভিনয় করেছেন।

পরিচালক হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাবনার প্রকাশ ঘটাতেই সিনেমা বানাতে চান বলে জানান বিপাশা হায়াত। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া মুক্তিযুদ্ধের সন্তান হিসেবে গল্প ও অনুভূতিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতেই এই উদ্যোগ। চিত্রনাট্য তৈরির পরিকল্পনা চলছে এবং বেঁচে থাকলে আগামী তিন বছরের মধ্যে এর কাজ শুরু করবেন। বড় কিংবা ছোট যেকোনো ক্যামেরা ব্যবহার করে এটি তৈরি হতে পারে; বাজেট বা কারিগরি সরঞ্জামের চেয়ে ভাবনাকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলাটাই তার কাছে মূখ্য। ক্যানভাস বা কাগজে যা প্রকাশ করছি, তা হচ্ছে আমার মনোজগৎ। সেজন্যই বলি, আমি ছবি আঁকি না, প্রকাশ করি। সেই লেখাটি আম্মার বাসায় থাকতে পারে।

বর্তমানে অভিনয় থেকে দূরে থাকা প্রসঙ্গে বিপাশা জানান, প্রচুর প্রস্তাব পেলেও মানসম্মত গল্প ও নাট্যরূপের অভাবে তিনি কাজ করছেন না। তার মতে, সত্যিকারের শিল্পে একটি গভীর দর্শন ও বার্তা থাকা প্রয়োজন। কেবল সংলাপ লিখে গেলেই নাটক হয় না; নাটকের ভেতরে যে তাগিদ ও সমাজচিন্তা থাকা দরকার, বর্তমান কাজে সেই জায়গার ঘাটতি রয়েছে। তাই সঠিক গল্প ও চিত্রনাট্যের জন্যই তিনি অপেক্ষা করছেন।

জীবনসঙ্গী তৌকীর আহমেদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তাদের মাঝে চমৎকার বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা রয়েছে। বিয়ের আগে দীর্ঘ নয় বছর একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৌকীর তাকে সব সময় স্বাধীনচেতা একজন মানুষ হিসেবেই দেখেছেন। লিঙ্গপরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দুজন মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা এবং নিজস্ব শিল্পচর্চার স্বাধীনতাই তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। একজন বীর যখন পৃথিবী জয় করে নিজের শহরে প্রবেশ করেন, তখন তাকে গোলাপ ছিটিয়ে স্বাগত জানানো হয়। আর যখন হেরে যান, তখন তার দিকে পাথর ছুড়ে মারা হয়। তখন আমার বয়স ১৩-১৪ বছর। ছোটবেলায় যখন বই পড়তাম, তখন মনে হতো, আমিও লিখব।

ক্যানভাস ও চিত্রশিল্প নিয়ে বিপাশা হায়াত জানান, ক্যানভাসে ছবি আঁকা তাঁর কাছে কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বরং তা মনের ভাব প্রকাশের সর্বজনীন মাধ্যম। বিশ্বজুড়ে ‘আর্ট অ্যান্ড জাস্টিস’ নিয়ে কাজ করা ২০ জন খ্যাতিমান শিল্পীকে নিয়ে ইতালি ভাষায় প্রকাশিত একটি বইয়ে তার কাজ স্থান পেয়েছে, যা অ্যামাজনে পাওয়া যায়। তিনি জানান, বইটিতে মূলত তাঁর শিল্পকর্মকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই সর্বজনীন ভাষার মাধ্যমে যুক্ত হন।

কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে বিপাশা জানান, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘প্যাট্রিয়ট’ কবিতাটি পড়ে মানুষের রূপান্তরের রূপ দেখে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। এ ছাড়া ‘দ্য রাইম অব দ্য এনশিয়েন্ট মেরিনা’ এবং জীবনানন্দ দাশের বিভিন্ন কবিতা তাঁর জীবন দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলে পড়ার সময় অষ্টম শ্রেণিতে রবীন্দ্রনাথের ‘বিদায় অভিশাপ’ পড়ার স্মৃতি ও পরবর্তীতে গীতিনাট্য ‘দেবযানী’তে আবৃত্তি করার কথা জানান। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘শেষের কবিতা’র আবৃত্তি প্রতিদিন রাতে শোনা ছিল তাঁর অভ্যাস, যা তিনি বাবার কাছ থেকে পেয়েছিলেন। কবিতা আপনাকে কতটা পাল্টে দিয়েছে। জীবনের প্রথম দিকে পড়া, ভালো লাগা ও মুগ্ধ হওয়া কোনো কবিতার কথা বলতে গেলে ‘প্যাট্রিয়ট’-এর কথা আসবে। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় অসাধারণ বোধ আছে। চরিত্রটি হয়ে ওঠার জন্য যে পোশাক পরতে হয়েছে, যেভাবে চিন্তা করতে হয়েছে—সবই ছিল দুর্দান্ত। বিজরী নেচেছিল, আর আমি আবৃত্তি করেছিলাম।

মঞ্চনাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে বিপাশা বলেন, ২১-২২ বছর বয়সে তিনি সৈয়দ শামসুল হকের ‘খাট্টা তামাশা’ ছাড়াও ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ ও ‘অচলায়তন’ নাটকে কাজ করেছেন। আপনি তো লেখালেখিও করেন।

এগুলোর সংলাপ কাব্যের মতো সুন্দর ছিল।

অন্যদিকে, নিজের লেখালেখির অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাবা আবুল হায়াতকে লিখতে দেখে এবং পড়ালেখার অনুপ্রেরণা থেকেই লেখার ইচ্ছা জাগে।

ভিকারুননিসা স্কুলের সাহিত্য পত্রিকায় প্রথম লেখার পর ‘ভোরের কাগজ’-এ সঞ্জীব, তাপস ও সাজ্জাদ শরীফ এবং পরবর্তীতে আনিসুল হকের উৎসাহে নিয়মিত লেখেন।

সময় প্রকাশনী থেকে তাঁর একটি বইও প্রকাশিত হয়েছিল।

নাট্যকার হিসেবে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতি তুলে ধরতে ভালোবাসেন বিপাশা। ‘শঙ্খবাস’ নাটকে চারপাশের মানুষদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা এবং ‘জোছনাকাল’ নাটকে মানবের ভেতরের দূরত্বকে চিত্রিত করেছিলেন, যা দর্শকরা নিজেদের জীবনের গল্প হিসেবে আপন করে নিয়েছিলেন। শিল্পীজীবনের এই পুরো পথচলায় বাবা-মায়ের অবদানকে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তিনি; বাবাকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া আর মায়ের কাছ থেকে সংসারের শিক্ষা পাওয়াই তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি। আবার ‘জোছনাকাল’ নাটকে একটি নিরীক্ষা করেছি সম্পর্কগুলোর দূরত্ব নিয়ে।

অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ও বিনোদন সংবাদ

  • এলপিজি মূল্য বৃদ্ধিএলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • এইচএসসি ফল বিশ্লেষণএক দেশ ও দুই শিক্ষাব্যবস্থার নিদারুণ বাস্তবতা ফুটে উঠেছে পরীক্ষার ফলাফলে।
  • ক্রিকেট বার্তাসিলেটে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন স্যামি।
  • স্বাস্থ্য গবেষণাচা পানের বিশেষ ধরনের ওপর নির্ভর করে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি।
  • জ্বালানি খাতজ্বালানি খাতের ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পরওয়ার।
  • শাহরুখ খানপ্রেম নয়, পুরুষের চোখের জলও সুন্দর হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
  • বলিউড মেগাস্টারঅমিতাভ বচ্চন কেন হঠাৎ বুলেটপ্রুফ কাচের ভেতর থেকে ভক্তদের সামনে এলেন, তা নিয়ে আলোচনা।
  • নায়করাজ রাজ্জাকশততম সিনেমা ও তাঁর ‘নায়করাজ’ হয়ে ওঠার পেছনের প্রেক্ষাপট।
  • আপনার বাবা-মায়ের প্রসঙ্গে জানতে চাই।
  • টেলিভিশন থেকে বলিউডের বাদশা।