১০ দেহরক্ষী নিয়ে আদালতে হাজির অভিনেত্রী পরীমনি

Published: November 5, 2026, 6:56 am

আলোচিত বোটক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে এসেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনি। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তিনি। এ সময় তার গাড়ি ঘিরে কালো পোশাক পরিহিত ১০ জন বডিগার্ডকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। মামলার শুনানি শুরু হলে তাদের নিরাপত্তায় আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নেন এই অভিনেত্রী। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। শুনানি শুরু না হওয়ায় এ সময় গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছিলেন পরীমনি।

এর আগের দিন বুধবার ৪ নভেম্বর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। তবে আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেছিলেন পরীমনি। আবেদনে জানানো হয়, অ্যালার্জিজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হাজির হতে পারেননি। এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিল ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়ে বলেন, বিবাদী ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করছেন। আদালত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরীমনির সময়ের আর্জি নাকচ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।

২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তার দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জুন আদালত মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময়ও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী দিনই তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছিলেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের ৮ জুন মধ্যরাতে পরীমনি ও তার সঙ্গীরা সাভারের বোটক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে ক্লাবের সভাপতির কাছে বিনামূল্যে মদের বোতল দাবি করলে নাসির উদ্দিন মাহমুদ তাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ক্লাবে ভাঙচুর চালান। এরপর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব থেকে বের হওয়ার পথে নাসির উদ্দিনকে ডেকে পরীমনি মদের বোতল চেয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও সার্ভিং গ্লাস নাসির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন, যার আঘাতে তিনি মাথা ও বুকে জখম হন। উল্লেখ্য, একই ঘটনায় ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির বিরুদ্ধে সাভার থানায় পাল্টা মামলা করেছিলেন পরীমনি। এর পাশাপাশি পরীমনির বিরুদ্ধে আলাদা মাদক মামলাও রয়েছে।