জরিপ: ডিএসসিসির ২৯টি ওয়ার্ড ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক দিয়ে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

Published: November 4, 2026, 5:26 pm

রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি এলাকা ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া ২৮টি ওয়ার্ড মাঝারি এবং ১৮টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বুধবার নগর ভবন মিলনায়তনে বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ-২০২৬ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপ অনুযায়ী, ডিএসসিসির ৫৭টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব বর্তমানে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ডিএসসিসির ৩৬ জন মাঠকর্মী গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ করেন।

করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে ৪০৩টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা শনাক্ত হয়েছে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান জানান, পাওয়া লার্ভার ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ বহুতল ভবনে, ৩১ দশমিক ৩৭ শতাংশ একক বাড়িতে, ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ সেমি-পাকা বাড়িতে এবং ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবনে পাওয়া গেছে।

এডিস মশার প্রজনন উৎসের বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ লার্ভা মেঝেতে জমে থাকা পানিতে এবং ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বালতিতে রাখা পানিতে জন্ম নিয়েছে। লার্ভার উপস্থিতির হার অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি খালি প্লটেও উল্লেখযোগ্য।

জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, কেবল সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়তে নগরবাসীর সচেতনতা, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এছাড়া গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা এবং অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।