গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাড্ডায় জামায়াতের বিক্ষোভ

Published: November 5, 2026, 11:56 am

দফায় দফায় জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীর বাড্ডায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে উত্তর বাড্ডায় এই প্রতিবাদী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে আয়োজিত সমাবেশের পর একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এই সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন, যারা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের খালি সিলিন্ডারের ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। জনজীবনে সৃষ্ট তীব্র কষ্টের বহিঃপ্রকাশ ছিল এই অভিনব প্রতিবাদ।

নেতৃত্ব ও সমাবেশের প্রেক্ষাপট

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, জনস্বার্থ রক্ষাই তাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আজ আমরা কোনো ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠা বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এখানে আসিনি। আমরা এসেছি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি অভিযোগ করেন, বাজারে সাধারণ মানুষের চোখেমুখে হতাশা ও অস্বস্তি বিরাজ করছে, কারণ আয় ও ব্যয়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বারবার বাড়ানো হলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি।

সিন্ডিকেট ও সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি

  • অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
  • জনগণকে অস্তিত্বসংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে উন্নয়নের ফানুস ওড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।
  • ক্ষমতা পরিচালনা এত সহজ বিষয় নয়; দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হলে সরকারের টিকে থাকা কঠিন হবে।
  • গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করার পরিণতির ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

সেলিম উদ্দিন আরো বলেন, সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি সরকারকে জনকল্যাণমুখী কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা এমন কোনো দেশ চাই না যেখানে কৃত্রিম উন্নয়নের কথা বলা হবে কিন্তু সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনমানের কোনো উন্নতি ঘটবে না। কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সরকারের কুসুম কুসুম সম্পর্ক থাকা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন ও করণীয়

সমাবেশে বর্তমান গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনেরা তাদের বেতন বৃদ্ধির যে দাবি জানিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ন্যায্য। বাজারে অস্থিরতার মধ্যে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করা ও জীবন কেড়ে নেওয়া চরম অন্যায়। তিনি শ্রমিকদের হয়রানি ও চাকরি থেকে ছাঁটাই বন্ধ করার পাশাপাশি সময়মতো বেতন পরিশোধের দাবি জানান। শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের আন্দোলন যৌক্তিক, তবে ভাঙচুর কিংবা কারখানায় আগুন দেওয়ার মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বেন না। নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ যেন সুযোগ নিতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের দাবি পূরণের নির্দেশ দেন তিনি।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তাদের অংশগ্রহণ

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও ইয়াসিন আরাফাত এবং প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ এবং মিজানুর রহমান খান। বক্তারা অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।