দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

Published: November 7, 2026, 2:56 pm

দেশের বিরুদ্ধে চলমান যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব খর্ব করতে সচেষ্ট। তবে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষ যে কোনো চক্রান্ত রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো এখনও তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আজকে ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। একই সঙ্গে যে গণতন্ত্রকে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ জীবন বিসর্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই গণতন্ত্রকে রক্ষার দিন হোক আজকের এই ৭ই নভেম্বর। প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকারী মানুষকে নিয়ে আমরা যে কোন ষড়যন্ত্র দেশের ভেতরেই হোক, দেশের বাইরেই হোক, সকল ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা এক এক করে দেব। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ছিনিয়ে আনে নাই।

বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনের অস্থায়ী মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেন। এর আগে বেলা ১২টা থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে সমবেত হতে থাকেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত এলাকাটি জনসমুদ্রে রূপ নেয়। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। নেতা-কর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য রুপ দেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশকে দাবিয়ে রাখতে চায় এবং আবারও আমি-ডামি নির্বাচনের নীলনকশা করছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে। ৭ই নভেম্বরকে তিনি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাক স্বাধীনতার দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লী নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে যেভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের গণতন্ত্র সুরক্ষায় প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব ঐক্যবদ্ধভাবে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনসমাবেশ শেষে তিনি পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে অংশ নেন এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। এই সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান। তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতারা অংশ নেন।