লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প -: স্টিফেন মিলারকে চিফ অব স্টাফ নিয়োগ

Published: November 7, 2026, 4:57 am

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে মনোনীত করেছেন। সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর সুসি ওয়াইলসের পদত্যাগের ঘটনায় এই রদবদল বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী সোমবার থেকে মিলার তার নতুন দাপ্তরিক দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিয়োগ ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে ট্রাম্পের আসন্ন সংঘাতের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। নিজ দলেও মিলারকে নিয়ে বিভক্তি রয়েছে।

নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের আধিপত্য হারানোর ঘটনায় ট্রাম্প দলের কৌশলের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের রাতে ট্রাম্প তার ক্ষোভ সরাসরি ব্যক্ত করেন, যা মূলত ওয়াইলসের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট তৈরি করে। এছাড়া স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে ব্যক্তিগতভাবে কঠিন সময় পার করা ওয়াইলস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের চিফ অব স্টাফদের তুলনায় বেশ দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানান, মিলার শুরু থেকেই তার ঘনিষ্ঠ এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই রদবদল কেবল নতুন কৌশলের অংশ, যা নির্বাচনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এবং ওয়াইলস তার অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন। ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়ার পর ওয়াইলস পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। হেগসেথের সাথে ওয়াইলসের সম্পর্ক আগে থেকেই তলানিতে ছিল।

নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলার প্রশাসনিক মহলে তার কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য সুপরিচিত। অতীতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) কর্মকর্তাদের প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের নজিরবিহীন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিনি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, মিলারের এই অন্তর্ভুক্তি ট্রাম্পের পুরনো কঠোর নীতিতে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। তবে তার অতীত কার্যক্রম নিয়ে বিতর্কও কম নেই; মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে নিয়ে তার মন্তব্যকে অনেকেই উসকানিমূলক বলে মনে করেন। এছাড়া ভেনিজুয়েলা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তার মাদকবিরোধী অভিযানের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারও স্বামীর এই পদোন্নতির জন্য পর্দার আড়ালে তদবির করেছিলেন বলে জানা গেছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তা জানান, এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার পুরনো রূপে ফিরে এসেছেন।

মিলারকে ‘বিপজ্জনক চরমপন্থী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাউস লিডার হেকিম জেফরিস।

তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করে মিলারকে কখনো পিছপা না হওয়া একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। দলের অভ্যন্তরেও তাকে নিয়ে মতভিন্নতা স্পষ্ট; নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সেনেটর থম টিলিস তাকে অযোগ্য মনে করলেও, ইউটাহর সেনেটর মাইক লি তাকে রক্ষণশীল যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে, উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের অবৈধ শ্রমিকবিরোধী নীতির বিপরীতে মিলারের এই নতুন অবস্থান কংগ্রেসের আইন পাসের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নবনির্বাচিত ডেমোক্রেট সেনেটর জেমস টালারিকোকে নিয়ে মিলারের অতীত কটূক্তি নতুন কংগ্রেসের পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অন্যদিকে উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী ব্যবসাগুলোর ওপর বেশি নজর দেয়ার কথা বললেও, কট্টরপন্থী মিলারের আগমনে সেই নীতির বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।