মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইরান তাদের সামরিক ‘টার্গেট ব্যাংক’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক বাহিনীকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বড় ধরনের হামলার জবাব দেওয়া যায়। তেহরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৭০০টিরও বেশি স্থাপনা তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রাসুল সারদারের বরাতে জানা গেছে, ইরানি কর্মকর্তারা পুরো অঞ্চলজুড়ে ৭০০টিরও বেশি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে কোন কোন স্থাপনা চূড়ান্তভাবে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আটটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, জর্ডান ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইরাকি কুর্দিস্তানের ইরবিলে অবস্থিত বিভিন্ন স্থাপনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো অতীতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচলের পথগুলোও ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বিমানবন্দর, হোটেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর মতো তুলনামূলক কম সুরক্ষিত বা নরম লক্ষ্যবস্তুগুলোও ইরানের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান আবুধাবি, দুবাই ও ইরবিলের বেসামরিক বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানকারী সামরিক কর্মী ও স্থাপনাগুলো।
এর আগে গত জুলাই মাসে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছিল যে, তারা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে অ্যামাজনের কেন্দ্রীয় ডেটা অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনার বিস্তারিত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে তালিকায় মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি বেশ কিছু আমেরিকান কোম্পানির স্থাপনাও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ইরান কোনো নতুন সংঘাতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। তবে এই তালিকার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।





