বলিউডের বাদশা বা কিং খান হিসেবে পরিচিত শাহরুখ খানের পরিচয়ে কোনো বিশেষণের প্রয়োজন পড়ে না। দুই হাত ছড়িয়ে রোমান্টিক ভঙ্গি কিংবা সংলাপ বলার নিজস্ব শৈলী তাকে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা। আজ ২ নভেম্বর এই জনপ্রিয় অভিনেতার জন্মদিন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল দর্শকদের মুগ্ধই করেননি, বরং বারবার নিজের অভিনয়ের সীমানা ছাড়িয়ে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এক্সপ্লেইনার / মজুরি বোর্ড কীভাবে কাজ করে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেয়। পোশাক খাতে অস্থিরতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিক দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এমন একজন অভিনেতা, যিনি কখনো নির্দিষ্ট কোনো চরিত্র বা ইমেজে নিজেকে আটকে রাখেননি।
তার অভিনয়জীবনের সূচনা বড় পর্দায় নয়, বরং ছোট পর্দায়। ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর। সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত এলিজা জামান।
বলিউডে আসার আগে ‘ফৌজি’ ও ‘সার্কাস’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শক ও নির্মাতাদের নজর কাড়েন।
টেলিভিশনের সেই তরুণ অভিনেতা পরবর্তীতে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার হাত ধরে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে শুরু থেকেই তিনি চেনা ছকের নায়ক হতে চাননি। ‘ডর’ ও ‘আনজাম’ সিনেমায় একরোখা প্রেমিকের চরিত্রে এবং ‘বাজিগর’-এ নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি তার অভিনয় দক্ষতার জানান দেন।
তবে শাহরুখের আকাশছোঁয়া তারকাখ্যাতির ভিত্তি মূলত তার রোমান্টিক সিনেমাগুলো। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এবং ‘মোহাব্বতে’-এর মতো সিনেমা তাকে বলিউডের রোমান্টিক আইকনে পরিণত করে। সিনেমার সংলাপগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। যেমন, ‘বড়ে বড়ে শহরো মে অ্যায়সি ছোটি ছোটি বাতেঁ হোতি রেহতি হ্যায়, সেনোরিটা’ কিংবা ‘পেয়ার দোস্তি হ্যায়’-এর মতো কালজয়ী লাইনগুলো তার ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। তবে বিপুল জনপ্রিয়তা ও তারকাখ্যাতির আড়ালে শাহরুখের আরেকটি পরিচয় প্রায়ই চাপা পড়ে যায়।
রোমান্টিক তারকা হওয়া সত্ত্বেও শাহরুখ বিচিত্র চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে দ্বিধা করেননি। ‘স্বদেশ’ সিনেমায় নাসার বিজ্ঞানী মোহন ভার্গব চরিত্রে তার সংযত অভিনয় ছিল গভীর জীবনবোধের পরিচায়ক। এছাড়া ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’তে অপমানিত কিন্তু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হকি কোচ কবির খান হিসেবে তার অভিনয় ছিল অনবদ্য। ‘মাই নেম ইজ খান’-এ রিজওয়ান খান চরিত্রে তিনি বৈষম্য ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা এক সহজ-সরল মানুষের আবেগ ও অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তোলেন।
‘ফ্যান’ সিনেমায় নিজেকে নিয়ে গিয়ে তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছান। এখানে তিনি একই সঙ্গে একজন জনপ্রিয় সুপারস্টার এবং তার প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ভক্তের দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শারীরিক গঠন, আচরণ ও মানসিকতার সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ফুটিয়ে তোলার কারণে অনেকের মতে এটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাহসী ও সেরা অভিনয়গুলোর একটি।
২০২৩ সালে দীর্ঘ বিরতির পর ‘পাঠান’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বক্স অফিসে নতুন করে ঝড় তোলেন। অ্যাকশন হিরো হিসেবে নতুন রূপে হাজির হয়ে দর্শকদের মন জয় করেন। একই বছর ‘জওয়ান’ সিনেমায় অ্যাকশনের পাশাপাশি সামাজিক অসংগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এরপর ‘ডানকি’ সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন অভিবাসন ও দেশত্যাগের আকাঙ্ক্ষা ঘিরে তৈরি এক আবেগঘন চরিত্রে। যদিও প্রতিটি সিনেমার সাফল্য সমান ছিল না, তবে নিজেকে ভেঙে নতুন কিছু করার আগ্রহ তার কখনো কমেনি।
তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অন্যতম। অভিনয় ছাড়াও ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। অভিনয়ের প্রতি তার এই অদম্য ভালোবাসা ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রের প্রতি আগ্রহই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। আজকের এই বিশেষ দিনে তার অভিনয়যাত্রার প্রতিটি অধ্যায় সিনেমার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের ৪০০ ছক্কা, কে কতটি হাঁকিয়েছেন। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক অভিনেতা শাহরুখের বর্ণিল অভিনয়যাত্রার কিছু উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।





