যশোর শহরের গরিব শাহ (র.
মাজারের সামনে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গভীর রাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রোববারের এই ঘটনার দৃশ্য ভিডিও করে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কয়েকজন নেতা ফেসবুকে প্রচার করেন। স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন ধরানো হলেও স্থাপনাটি বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। সেখানে বর্তমানে কেবল কালো দাগের চিহ্ন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে তিনজন যুবক সেখানে এসে আগুন দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং একজন পুরো বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে নিচ থেকে ছয়-সাত ফুট ওপর পর্যন্ত কালো দাগ রয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যানুযায়ী, যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন এবং ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন তাদের ফেসবুক পেজে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়েছেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, স্মৃতিস্তম্ভ সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি, তবে দুর্বৃত্তরা দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে স্থাপিত বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফেসবুকে স্মৃতিস্তম্ভ সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তার সত্যতা মেলেনি। পুলিশ বলছে, দুর্বৃত্তরা গোপনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে, তবে স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত আছে।
স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিকাণ্ড ও রবিবার সকালে যশোর শহরের মাইকপট্টিতে যুবলীগের ব্যানারে হওয়া ঝটিকা মিছিলের জেরে পুলিশ জেলাব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, নাশকতার অভিযোগে জেলার ৯টি থানা থেকে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলা থেকেই ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে সাতজন সরাসরি ওই ঝটিকা মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনা জানার পর সোমবার বেলা ১২টার দিকে যশোর জেলা পুলিশের একটি দল স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। তিনি আরও বলেন, যশোরের নয়টি থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশ নাশকতার অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করেছে।
অন্যান্য থানা এলাকাগুলোর মধ্যে চৌগাছায় দুইজন, মণিরামপুরে তিনজন, শার্শায় দুইজন, অভয়নগরে চারজন, কেশবপুরে তিনজন, বাঘারপাড়ায় চারজন, বেনাপোল পোর্ট থানায় চারজন এবং ঝিকরগাছা থানা এলাকায় দুইজন আটক হয়েছেন। জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্ররোচনায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কিছু সদস্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





