৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস ইউপি সদস্য আমিনুলের স্বপ্ন

Published: November 2, 2026, 7:28 am

৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার স্বাক্ষর রাখলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমিনুল ইসলাম। তিনি এবারের পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৩ অর্জন করেছেন। দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা ও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেও শিক্ষার প্রতি তার এই অদম্য আগ্রহ স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তোরাব আলীর ছেলে। ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করা ওই ইউপি সদস্যের নাম আমিনুল ইসলাম। শেখার অদম্য ইচ্ছাই তাকে সফলতা এনে দিয়েছে।

আমিনুলের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ বিরতি ছিল। ১৯৯৯ সালে মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর জীবিকার সন্ধানে তাকে পড়াশোনা থেকে দূরে থাকতে হয়। দীর্ঘ সময় পর জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সময় তিনি শিক্ষার গুরুত্ব নতুন করে অনুধাবন করেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে শিক্ষিত করে তোলার সংকল্প নিয়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল এলাকার সিটি ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন তিনি। এরপর জীবন ও জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ সময় পড়াশোনার সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তবে মনের ভেতর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটি বেঁচে ছিল। তখন নিজেকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ইচ্ছা জাগে।’।

নিজের এই পথচলা সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাসের পর সংসার ও জীবিকার প্রয়োজনে আর পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সময় শিক্ষার অভাব তীব্রভাবে অনুভব করেছি। তখনই নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য ঠিক করি। সারাদিন মানুষের সেবা করার পর রাতে ক্লান্তিহীনভাবে পড়াশোনা করেছেন তিনি। তার মতে, শেখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। সুযোগ পেলে তিনি স্নাতক পর্যায়েও ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছেন। সংসার ও কর্মজীবনের ব্যস্ততায় আর ফেরা হয়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে মানুষের সেবা করে রাতে বই নিয়ে পড়তে বসতাম।

শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে তার এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। অনেকের কাছেই আমিনুল ইসলাম এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রেরণা। তার এই অর্জন নিয়ে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, এটি শুধু আমিনুল ইসলামের একক সাফল্য নয়, বরং আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের জন্যও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। নিয়মিত চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা জানান, এই বয়সে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে ভালো ফলাফল করা বর্তমান সমাজের জন্য একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত। নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং সমাজসেবার পাশাপাশি তার এই অধ্যবসায় এলাকায় নতুন প্রজন্মের সামনে এক অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।