মুচলেকা দিয়ে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি

Published: November 5, 2026, 9:56 am

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বুধবার আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। একইসঙ্গে সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১১ জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষীসহ আদালতে উপস্থিত হন পরীমনি। বেলা ১১টা ৪১ মিনিটের দিকে তিনি এজলাসে ওঠেন। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন জানালে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। দুপুর ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এসময় এক সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে তিনি গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে, তবে পরবর্তীতে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। এদিন আত্মসমর্পণ করতে সকাল সাড়ে ৯ টায় আদালতে আসেন পরীমনি। এসময় তার সঙ্গে ১১ ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। পরে ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে যান। এসময় তার সঙ্গে দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। পরে গাড়িতে উঠার সময় এক সাংবাদিক তার গায়ে হাত দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। এই কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন।

মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল।

ওই সময়ও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে জামিনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।

এছাড়া ২০২৪ সালে পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ওই বছরের ২৫ জুন তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন।

বোট ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ২০২১ সালের ৬ জুলাই পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি।

মামলার বিবরণে বাদী নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। রাতে ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসির উদ্দিনকে ডেকে অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এসময় নাসির উদ্দিনকে একটি দামি অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দিতে চাপ দেন। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন।

নাসির উদ্দিন ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ শুরু করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও নিজের মোবাইল ফোন ছুঁড়ে মারেন, যার ফলে নাসির মাথায় ও বুকে আঘাত পান। বাদীর অভিযোগ, পরীমনি ও তার সঙ্গীরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন এবং ক্লাবের ভেতরে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই পরীমনি পরবর্তীতে সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পাল্টা মামলা করেছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান।