ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথ নির্ধারণ করেছিল। তার মতে, ওই দিনটি ছিল দেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার একটি অনন্য মুহূর্ত। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তাদের পরাজয় ঘটেছিল এই দেশপ্রেমিক বিপ্লবের মাধ্যমে।
তারেক রহমান বলেন, সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ধরনের চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। ইতিহাস পর্যালোচনায় তিনি একটি প্রবাদবাক্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ইতিহাস ভুলে যাওয়াও বড় ধরনের ভুল। অতীতে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যারা মহাজোটের নামে একজোট হয়েছিল এবং রাষ্ট্রকে তাঁবেদার করতে চেয়েছিল, ইতিহাস তাদের সাক্ষী রেখেছে। সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের সেই অপশক্তিই বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছিল এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে দিয়েছিল। তবে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারো শহিদের রক্ত এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ সেই ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের লড়াই ছিল দেশ ও জনগণের সেই স্বাধীনতা রক্ষার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালেও ঠিক একইভাবে সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়িয়েছিল। ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত। জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে ৭ নভেম্বরের চেতনার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি সংগ্রামের লক্ষ্য একটাই ছিল। সেটি হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। তিনি গণতন্ত্রকামী জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, এই ঐতিহাসিক দিনে শপথ হোক—দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।





