তাওহীদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজের বিপক্ষে লিড বাংলাদেশের

Published: November 7, 2026, 10:26 am

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। দলীয় স্কোর দুইশোর নিচেই গুটিয়ে যাওয়ার তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছিল স্বাগতিকদের শিবিরে। তবে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তুলেছেন তাওহীদ হৃদয়। তার অনবদ্য ও ম্যাজিকাল ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৩৮৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ, ফলে উইন্ডিজের বিপক্ষে তারা ৩০ রানের লিড পেয়েছে।

ম্যাচজুড়ে একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন হৃদয়। নবম উইকেট হিসেবে তাসকিন আহমেদের বিদায়ে ইনিংসের সমাপ্তি ঘটলে আর ব্যাটিংয়ে নামেননি সাদমান ইসলাম। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ২৪২ রান নিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো ফরম্যাটে এটিই এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের করা অপরাজিত ২১৯ রানকে পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি।

ব্যাট হাতে নিজের দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ৩০৪ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন হৃদয়। টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। মুশফিক তিনটি, আর তামিম ও সাকিব একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। হৃদয়ের এই ইনিংসটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটিই কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এর আগে ২০২১ সালে মুমিনুল হকের ১১৫ রান ছিল এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। অথচ একসময় ২০০ রানের মধ্যেও অলআউট হওয়ার শঙ্কা ছিল টাইগারদের। এবার তাদের পাশে নিজের নাম লেখালেন হৃদয়।

উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করেছিল। বাংলাদেশের হয়ে সেই ইনিংসে দুর্দান্ত বল করে ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন হাসান মাহমুদ। এরপর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েও হৃদয়ের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। তার এই বীরত্বপূর্ণ ইনিংসটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।