কাতারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করলো বাংলাদেশ দূতাবাস

Published: November 8, 2026, 12:56 pm

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসের কার্যক্রমের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকলের মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরদার ইশতিয়াক আহমেদ এবং মোহাম্মদ মাশহুদুল কবির। এ সময় ৭ই নভেম্বরের প্রেক্ষাপট নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-সহ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্।

দূতালয় প্রধান বারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা পর্বে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং জাতীয় স্বাধীনতা সুরক্ষায় সিপাহি-জনতার ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, জুলাই যোদ্ধা জিহাদ নুর চৌধুরী, কাতার বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ খোকন, একেএম আমিনুল হক, শাহজাহান সাজু, জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, শফিকুল ইসলাম, ইসমাইল মনসুর এবং বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ হোসেন আহমেদ। বক্তারা জাতীয় ঐক্য ও দেশ গঠনে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান বলেন, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ চেতনা তৎকালীন সময়ে জাতিকে বড় সংকট উত্তরণের পথ দেখিয়েছিল। তিনি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান যে, সেই ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি কাতারের আইন ও সংস্কৃতি মেনে চলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষার্থী, প্রবাসী শিল্পী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। সবশেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানে কাতার প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।