অর্থনীতি গণতান্ত্রিক না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব: অর্থমন্ত্রী

Published: November 8, 2026, 10:26 am

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য অর্থনীতির গণতান্ত্রিকায়ন জরুরি। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনীতিতে গণতন্ত্র না থাকলে রাজনৈতিক গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না। তাই রাজনীতির গণতন্ত্র সুসংহত করতে আগে অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরো কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিগত সরকারের কাজের সমালোচনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে আলোচনা করে সময়ের অপচয় করতে চাই না। তবে সরকারি তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কারণ, কোনো সরকার যদি দেশের তথ্য নিয়ে মিথ্যাচার বা প্রতারণা করে, তবে তা শেষ পর্যন্ত নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণার শামিল। সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য ছাড়া রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা আনা অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি। এটি ওয়েস্ট অব টাইম (সময়ের অপচয়)।’’।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার কোনোভাবেই তথ্য বিকৃত করতে চায় না। পরিসংখ্যান তৈরির ক্ষেত্রে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। জনগণের কাছে নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

উল্লেখ্য যে, সরকারি পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই প্রশ্ন ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শ্বেতপত্র তৈরির উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বলা হয়েছিল, বিগত সরকারের শাসনামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকগুলোর তথ্য বাস্তবতার চেয়ে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিটি বলেছিল, বিগত সরকারের সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন সরকারি পরিসংখ্যান বাস্তবতার চেয়ে ফুলিয়ে দেখানো হয়েছে।