ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গাসা জেলায় অবস্থিত হিমবাহ সৃষ্ট শিনতাফু হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাহাড়ি এ হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি নেমে এলে মো ছু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গাসা ছাচুর সব স্থাপনা ভেসে যায়। তবে আশপাশের বাসিন্দাদের আগেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
প্রাকৃতিক এ বিপর্যয়ের কারণে ভুটান সরকার ইতোমধ্যে ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যকে সতর্ক করেছে। বন্যার স্রোত ইতোমধ্যে পুনাখা জং থেকে আট কিলোমিটার দূরবর্তী স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং আসামের ধুবড়ি এলাকাকে সম্ভাব্য ঝুঁকিযুক্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে উচ্চ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে প্রবাহিত সংকোশ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে। সংকোশ নদীটি আসামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ গঠিত হয়েছে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশে যমুনা নদী হিসেবে প্রবেশ করেছে। উজানের এ বিপুল পানি ভাটিতে নেমে এলে বাংলাদেশের নদ-নদীতেও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশে বন্যার ঝুঁকি কতটা তীব্র হবে, তা নির্ভর করছে পানির প্রবাহ ও গতির ওপর।
পরিবেশবিদদের মতে, শিনতাফু হ্রদটি ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের অন্যতম। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টেও একই হ্রদে আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। সেসময় মো ছু নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে গাসা ছাচুর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।





