বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান, সৌদির সঙ্গে চলছে সংলাপ

Published: November 6, 2026, 12:56 pm

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব নেতৃত্বে একটি নতুন ও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের ওপর জোর দিচ্ছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সৌদি আরবের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা নিয়মিতভাবে চলছে। পাশাপাশি, পুরো অঞ্চল থেকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের শত্রুতা নেই। তিনি ওমান ও কাতারের ইতিবাচক কূটনৈতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যেখানে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থাকবে না।

আরাঘচি আরও জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছেন। সেই সফরে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো যৌথভাবে মোকাবিলায় চার দেশ একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো অভিপ্রায় ইরানের নেই। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায় ইরান পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে। নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে তিনি উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। এরপরের দিন প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর। ইরান দাবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং দেশটিতে তেল রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর শর্তও জুড়ে দিয়েছে তেহরান। আরাঘচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় নিউ ইয়র্কে মার্কিন প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে সরাসরি বৈঠকের কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা আলাদা বিষয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে ইরান। তবে তেহরান কূটনীতিতে আগ্রহী হলেও যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের বিপরীতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে।