ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি

Published: November 5, 2026, 4:56 am

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই কার্যকর হবে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ডের প্রথম সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার। বুধবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে শুরু হওয়া এই সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের আবহে নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকার সম্প্রতি এই বোর্ড পুনর্গঠন করে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশে বাবুল আখতার বলেন, “আমরা শ্রমিক ভাইদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান, আমরা উনাদের পক্ষ থেকেই আমরা এখানে কাজ করতেছি। এবং যারা নাকি আজকে রাস্তায় বিভিন্ন আন্দোলনরত অবস্থায় আছেন, উনাদের পক্ষেই আমরা কথা বলতেছি যে, উনাদের যে দাবি ডিসেম্বরের মধ্যে এটাকে এই মজুরি কমিশনকে সম্পন্ন করা, সেইভাবে আমরা একমত। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেছেন। তাই শ্রমিকদের বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করছি।”।

সভায় নতুন মজুরি কার্যকর করার সময়কাল নিয়ে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই ঐকমত্য পোষণ করেছে। শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকেই নতুন মজুরি কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা তা জানুয়ারি মাসের বেতনের সাথে হাতে পাবেন। তিনি বলেন, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য তৈরি হয়নি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবিএম সামছুদ্দিনও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তারা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছেন এবং ডিসেম্বর মাসের বেতনের সাথে জানুয়ারিতে নতুন বর্ধিত বেতন প্রদানের বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই। তখন তিনি বলেন, “ডিসেম্বরে কার্যকর হবে, জানুয়ারিতে পাবে — এটা আমরা দুই পক্ষই, মালিক পক্ষও একমত হয়েছে, এটা আমরাও একমত হয়েছি। এই ব্যাপারে কোনো দ্বিধা নাই, ইনশাআল্লাহ্‌।”।

বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী জানিয়েছেন, সরকার ১ নভেম্বর পোশাক শিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য নিয়োগ দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় এই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভায় সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণের আইনি প্রক্রিয়া ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সভাগুলোতে মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে। চেয়ারম্যান শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বোর্ডের কর্মপরিকল্পনা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং মালিকপক্ষও এ বিষয়ে আন্তরিক। পরবর্তী সভায় তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনে লিখিত প্রস্তাব ও সুপারিশ নেওয়া হবে।”।

মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণত এ ধরনের কাজের জন্য ছয় মাসের সময়সীমা থাকলেও বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কারণে বোর্ড গঠন ও প্রথম সভার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় লাগার সম্ভাবনা কম। তবে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকে তাদের নিজ নিজ সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাই এবার আগের মতো দীর্ঘ সময় লাগবে না।”। তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ভালো ফল নাও আসতে পারে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা সেই বছরের ডিসেম্বরে কার্যকর হয়। সেই হিসাবে বর্তমান মজুরি হারের মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হতে চলেছে। নতুন মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ৬ সদস্যের একটি আলাদা বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম আইন অনুযায়ী গঠিত এই বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে আছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বিজিএমইএ পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন। শ্রম আইন অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের ৪ জন সদস্যের সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের মালিক ও শ্রমিকপক্ষের একজন করে প্রতিনিধিকে যুক্ত করে ৬ সদস্যের এ বোর্ড গঠন করা হয়।

অন্যদিকে, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই মজুরি কমিশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বোর্ড গঠনের ৩ দিনের মধ্যেই ১ম সভা হয়েছে।